চট্টগ্রাম   সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শিরোনাম

বাণিজ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র 

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৯:১৭ পিএম, ২০২৬-০৯-১৩

বাণিজ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। ভারতের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি দুটিই কমেছে। বড় ব্যবধানে শীর্ষে চীন।
ভৌগোলিক নৈকট্য, স্থলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা এবং তুলনামূলক কম খরচ—এসব কারণে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল ভারত। ১৬ বছর পর সেই অবস্থান বদলে গেছে। ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র; আর বড় ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। 
এই পরিবর্তন কেবল আমদানি-রপ্তানির অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের ভূরাজনৈতিক বিষয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষি, দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক চুক্তি কার্যকর না হলেএ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ভালো মানের পণ্য পাওয়া গেলেও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। 
দেখা গেছে, গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। তবে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোট বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আমদানি। 
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার কারণেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি কেনাকাটায় এই বৃদ্ধি বেশি। তবে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিশ্রুত বিশেষ শুল্কসুবিধা এখনো কার্যকর হয়নি। 
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান
অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এই পতনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। 
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারের। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে  ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার বেশি। 
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার কারণেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি কেনাকাটায় এই বৃদ্ধি বেশি। তবে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিশ্রুত বিশেষ শুল্কসুবিধা এখনো কার্যকর হয়নি। 
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কমার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই দেশের আরোপ করা অশুল্ক বাধায় আমদানি ও রপ্তানি কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভোক্তা ও উৎপাদক উভয়ের ওপর। ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শূন্য শুল্কসুবিধা না থাকলে রপ্তানি আরও কমত। 
যেভাবে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে বাংলাদেশ যত পণ্য আমদানি করে, তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য সেখানে রপ্তানি করে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। 
২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৬২৬ কোটি ডলার। পরের অর্থবছরে দেশটি থেকে আমদানি বাড়ায় উদ্বৃত্ত কমে ৫৫৫ কোটি ডলারে নেমেছে। 
২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯১১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে দেশটি থেকে আমদানি করেছে ৩৫৬ কোটি ডলারের পণ্য। 
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পাল্টা শুল্ক নিয়ে দুই দেশের আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমানোর নীতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক দফা আলোচনার পর শুল্কহার ২০ শতাংশ নির্ধারিত হয় এবং ৭ আগস্ট তা কার্যকর হয়। 
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ১১ দিন পর, ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপ করা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কগুলো অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বদলে গেলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিল বা সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। 
কয়েক মাসের দর-কষাকষির পর চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি সই করে। চুক্তিতে পাল্টা শুল্ক ১৯ শতাংশে নামানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য, ১৫ বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি পণ্য, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করে। পরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাকে পাল্টা শুল্ক শূন্য করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে চুক্তিতে। তবে সেই সুবিধার কাঠামো এখনো কার্যকর হয়নি। 
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ১১ দিন পর, ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপ করা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কগুলো অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি বদলে গেলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি বাতিল বা সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। 
কোন পণ্যের আমদানি কত বাড়ল
বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ায় বাংলাদেশ। সরকারি পর্যায়ে গম ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং বেসরকারি পর্যায়ে সয়াবিনবীজ ও তুলা আমদানি বেড়েছে। 
এনবিআরের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি হয়নি। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের গম এসেছে, যার বড় অংশ আমদানি করেছে সরকার। একই সময়ে সয়াবিনবীজ আমদানি ৩৫ কোটি থেকে বেড়ে ৬২ কোটি এবং তুলা ২৩ কোটি থেকে বেড়ে ৩৮ কোটি ডলারে উঠেছে। সরকারি খাতে এলএনজি আমদানি হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি ডলারের।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২৪৯ কোটি থেকে ৩৫৬ কোটি ডলারে উঠেছে। বিপরীতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের ১৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪ শতাংশ। ফলে মোট বাণিজ্য প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়লেও এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আমদানি থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকও একই ধরনের কারণের কথা বলেন। 
আমদানিকারকেরা যা বলছেন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার কারণ জানতে দেশটি থেকে পণ্য আনে—এমন দুটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলেছে । 
বেসরকারি খাতে গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শীর্ষ আমদানিকারক ছিল মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। শিল্পগোষ্ঠীটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে বাণিজ্যসুবিধা বেড়েছে। পণ্যের
মান বিবেচনায় দামও প্রতিযোগিতামূলক ছিল। এসব কারণে তাঁরা দেশটি থেকে আমদানি বাড়িয়েছেন। 
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকও একই ধরনের কারণের কথা বলেন। 
আমিরুল হক  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের মান তুলনামূলক ভালো এবং সরবরাহের নিশ্চয়তাও বেশি। অন্যদিকে সংঘাতের কারণে ইউক্রেনসহ কয়েকটি দেশ থেকে পণ্য আনার ক্ষেত্রে বন্দর ব্যবহারের ঝুঁকি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বেড়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পণ্য কিনছেন। 
যেভাবে পিছিয়ে গেল ভারত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যখন বাড়ছে, একই সময়ে ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। 
দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে তুলা, সুতা, খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় সেখান থেকে পণ্য আনতে সময় ও পরিবহন খরচও তুলনামূলক কম। এরপরও গত অর্থবছরে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানি দুটিই কমেছে। 
২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ সরকার ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ৮ এপ্রিল কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় দেশে রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহার করে ভারত। 
ভারতও তিন দফায় বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ১৭ মে ও ২৭ জুন পোশাক, খাদ্যপণ্য, পাটপণ্য, তুলা ও সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক পণ্য এবং কাঠের আসবাব রপ্তানিতে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়। পরে ১১ আগস্ট আরও কিছু পাটপণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর প্রতিকারমূলক শুল্ক আরোপের বিষয়েও তদন্ত শুরু করে ভারত। 
পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপে দুই দেশের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়। ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে। একই সঙ্গে ভারত থেকে তুলা ও সুতা আমদানিও হ্রাস পায়। 
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল প্রায় ৬৫ কোটি ডলার। স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানিতে বিধিনিষেধের মধ্যে গত অর্থবছরে তা ১২ শতাংশ কমে ৫৭ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ভারত থেকে তুলা আমদানি ৫২ কোটি থেকে ২৩ শতাংশ কমে ৪০ কোটি এবং তুলার সুতা ১৭৫ কোটি থেকে কমে ১৪৭ কোটি ডলার হয়েছে। এ দুই কাঁচামালেই আমদানি কমেছে ৪০ কোটি ডলার।
এনবিআরের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানি প্রায় ৩ শতাংশ এবং ভারত থেকে আমদানি সাড়ে ৭ শতাংশ কমেছে। দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ৮৯৬ কোটি ডলারের পণ্য। মোট বাণিজ্য ৭৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারে নেমেছে।
লাভ-ক্ষতির হিসাব
গম, সয়াবিনবীজ ও তুলার মতো পণ্য বাংলাদেশ সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, মান, পরিবহন খরচ ও সরবরাহসুবিধা বিবেচনা করে কেনে। এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিবেচনার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যচুক্তির শর্তও যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিনিময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে বিশেষ শুল্কসুবিধা পাওয়ার কথা, তা এখনো কার্যকর হয়নি। গত অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। 
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশ আমদানি বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যঘাটতি কমছে। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের আশঙ্কাও কমবে। 
মাহমুদ হাসান খান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রতিশ্রুত শুল্কছাড় কার্যকরের চেষ্টা করছেন তাঁরা। চলতি সেপ্টেম্বরে সুবিধাটির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। 
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কমার বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ব্যবসায় পরিবহন খরচ ও সময় কম লাগে। তাই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লে দুই দেশই লাভবান হবে। 
বড় ব্যবধানে শীর্ষে চীন
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন। গত অর্থবছরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্য হয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি ডলারের। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের তুলনায় প্রায় ৮১ শতাংশ বেশি। 
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মূলত আমদানিনির্ভর। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে ২ হাজার ২১৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। 
বিপরীতে চীনে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৮২ কোটি ডলারের পণ্য। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। চীন থেকে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ আনে বাংলাদেশ। 
তিন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ৩৯ শতাংশ
এনবিআরের হিসাবে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি ছিল ৭ হাজার ৩১২ কোটি ডলারের। রপ্তানি ছিল ৪ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার। আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার ৯৩৮ কোটি ডলার। 
এর মধ্যে চীনের সঙ্গে মোট বাণিজ্য হয়েছে ১৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১১ এবং ভারতের সঙ্গে ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এই তিন দেশের সঙ্গেই হয়েছে বাংলাদেশের মোট পণ্য বাণিজ্যের প্রায় ৩৯ শতাংশ। 
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বাণিজ্যঘাটতির অঙ্ক দিয়ে আমদানির ভালো–মন্দ বিচার করলে হবে না। চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের বড় অংশ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য। এসব কাঁচামাল
দিয়ে তৈরি পণ্য আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। 
তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ার সুফল নির্ভর করবে প্রতিশ্রুত শুল্কসুবিধা কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং দেশটি থেকে আমদানি বাড়াতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়ে তার ওপর। একইভাবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি পরিবহন খরচ, সরবরাহের সময়
এবং শিল্পের কাঁচামালের প্রাপ্যতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

রিটেলেড নিউজ

দুর্গম পাহাড়ে ঋণ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ সংগঠক

দুর্গম পাহাড়ে ঋণ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ সংগঠক

বান্দরবান প্রতিনিধি : : বান্দরবানের রুমা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের একজন মাঠ সংগঠক সমিতির ঋণ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছ...বিস্তারিত


চট্টগ্রামে জিপিএ–৫ সংবর্ধনা

চট্টগ্রামে জিপিএ–৫ সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘নিজের স্বপ্নগুলোই জীবনের এভারেস্ট। জীবনের এভারেস্ট জয় করতে হলে বই পড়তে হবে। পৃথিবীকে জানতে বে...বিস্তারিত


কোকেন-কান্ডে বেরিয়ে এলো ৬৩ বিদেশির আস্তানা, গ্রেপ্তার সেই মহসিন

কোকেন-কান্ডে বেরিয়ে এলো ৬৩ বিদেশির আস্তানা, গ্রেপ্তার সেই মহসিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরের খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের জন্...বিস্তারিত


কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১১

কর্ণফুলীতে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ...বিস্তারিত


শিশু ধর্ষণ, একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

শিশু ধর্ষণ, একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরের হালিশহর থানায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মো.মজিবর মৃধাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে...বিস্তারিত


চট্টগ্রামে একদিনে গ্রেপ্তার ৫২৪ জন

চট্টগ্রামে একদিনে গ্রেপ্তার ৫২৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৫২৪ ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত


মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা ন...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর